window.dataLayer = window.dataLayer || []; function gtag(){dataLayer.push(arguments);} gtag('js', new Date()); gtag('config', 'UA-151379677-3');

রেনু পোনা চাষ এর সব আইডিয়া ও ব্যবসার প্রসার

0
(0)

কৃষিভিত্তিক উৎপাদনের মধ্যে মাছের চাহিদা বাংলাদেশে প্রচুর। আর রেণু পোনা মাছ চাষ ও রেণু পোনার ব্যবসা করলে আপনি লাভজনক হয়ে যাবেন। কিন্তুু মাছের ব্যবসা করলে আপনাকে পোনা মাছের বা রেণু মাছ চাষ করার সকল কিছু জেনে রেখে তার পর রেণু মাছ চাষ করতে হবে। মাছ চাষ করে আয় করা যতটা সহজ তার চেয়ে কঠিন বিষয় হয়ে যায় সঠিক নিয় কানুন না জেনে শুনে রেণু মাছ চাষ করা কঠিন হবে। তাই আপনাকে আগে এই রেণু মাছ চাষ করার নিয়ম ও পদ্ধতি ভাল করে পড়তে হবে। এর পর রেণু মাছ চাষের ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে নামতে হবে তাহলে শুরু করা যাক আপনি রেশু মাছ চাষ করার জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করবেন নিম্নে এর বিস্তারিত বলা হল

রেণু পোনা চাষের প্রস্তুতি

আপনাকে রেণু পোনা মাছ চাষের প্রস্তুতি প্রথমে নিতে হবে এবং রেণু পোনা মাছের গুনগত মান কেমন হবে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কারন আপনাকে রেণু পোনা মাছের ব্যবসা করতে গেলে প্রথম প্রশ্নের সম্মুখে পড়তে হবে যে_ আপনার পোনা মাছ কেমন? তাই আপনাকে নির্ধারিত মাছের পোনা কোন মজুদ পুকুরে ছেড়ে চাষ করা উত্তম হয়।

সাধারনত ২ ধরনের পদ্ধতিতে রেণু মাছ চাষ করা হয় এবং রেণু পোনা এই ২ ধরনেরই উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়।

নদী থেকে

প্রথম উৎস হল নদী থেকে রেণু পোনা সংগ্রহ করা হয় যেমনঃ পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ, যমুনা হালদা ও প্রভৃতি নদীর উৎস থেকে রেণু পোনা সংগ্রহ করা হয় আর এসব নদী থেকে বৈশাখ ও জৈষ্ঠ মাসে এই রেণু পোনা সংগ্রহ করা হয়।

হ্যাচারী থেকে

আরেকটি উৎস থেকেও মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করা হয়। সেটি হল হ্যাচারী থেকে। বাংলাদেশে অনেক রেণু পোনা চাষের হ্যাচারী রয়েছে। আর এসব হ্যাচারী থেকে সারাবছর রেণু পোনা সংগ্রহ করা হয়।

কোন উৎসের মাছের রেণু পোনা ভাল

আপনি যদি মাছ চাষ করার পরিকল্পনা করেন তাহলে আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে কোন উৎসের মাছে পোনা ভাল হয়। আসলে এর উত্তর দেওয়া অনেকটা কঠিন হয় কারন দুটি উৎসেরেই বিভিন্ন রকম ভাল দিক রয়েছে।

আপনি যখন নদীর মাছের রেণু পোনা নিবেন তখন আপনাকে লক্ষ করতে হবে যে সাধারন অনুকূলের পরিবেশে পরিপক্ক প্রজনন ঘটেছে কিনা। যদি অপরিপক্ক প্রজনন দেখতে পান তাহলে সেই রেণু পোনা বেশি ভাল হবে না। আর যদি দেখেন পরিপক্ব প্রজনন হয়েছে তাহলে নদীর রেণু পোনা একদম সঠিক ভাবে হয়েছে। তাহলে এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে_ নদীর রেণু পোনা চাষ একদম সঠিক সময়ে সঠিক পরিবেশে ও ভাল প্রজনন ঘটলে তার আহরিত রেণু পোনা একদম ভাল।

তবে নদীতে চাষ করা রেণু পোনার আহরনের আর একটি সমস্যা হল আপনাকে বিভিন্ন প্রজাতির রেণু মাছের মিশ্রণ হয় বেশি তাই রেণু পোনা মাছকে সহজেই আলাদা করা সম্ভব হয় না। বর্তমান যুগে অনেক রেণু পোনা মাছ চাষের উদ্যোক্তারা নদীতেও জাত ভিত্তিক রেণু চাষ করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে হ্যাচারির রেণুতে প্রজাতির মিশ্রণ না ঘটিয়ে নির্দিষ্ট প্রজাতির রেণু সংগ্রহ ও লালন-পালন করা সম্ভব, তবে ব্রুড মাছের মান নিয়ন্ত্রণ না করলে এবং হ্যাচারির ব্যবস্থাপনায় সতর্ক না হলে নিম্নমানের রেণু বা সংকর জাতের মাছের রেণু উৎপাদিত হতে পারে, যা পরে চাষির ক্ষতির কারণ হতে পারে।

রেণু মাছের পুকুর

আপনি যদি রেণু মাছ চাষ করার কথা ভাবেন তাহলে প্রথমে আপনাকে একটি পুকুর নির্বাচন করতে হবে। পুকুর নির্বাচনের জন্য যদি আপনি নতুন পুকুর তৈরি করেন তাহলে আপনাকে পুকুরের চার পাড় উঁচু করে দিবেন। পুকরে যেন পর্যাপ্ত রোদ ও আলো বাতাস পায় সেদিকে লক্ষ রাখবেন। আর একটি জিনিস খেয়াল করবেন সেটা হল বন্যায় যেন আপনার পুকুর তলিয়ে না যায়। এছাড়া বর্ষাকালে পানির গভীরতা দুই মিটারের বেশি হবে না। পুকুরের তলদেশে বেশি কাদা থাকবে না। পুকুরের আয়তন ১০-৫০ শতাংশ হতে পারে।

আর যদি রেণু পোনা চাষ করার জন্য পুরাতন পুকুর নির্বাচন করেন তাহলে আপনি উপরের নতুন পুকুরের কথাগুলো বিবেচনা করবেন ও পুকুরের পানি শুকিয়ে নিবেন। তারপর আনি রাক্ষুশে মাছ সহ পুকুরের পুরাতন সব মাছ তুলে নিয়ে পুকুরের পানি শুকিয়ে নিবেন। পরে কিছুদিনের মধ্যে চুন দিবেন আর পুকুরের তলদেশের মাটি শুকিয়ে নিবেন। আর যদি পানি নিস্কাশন না করতে পারেন, তাহলে রোটেনন পানিতে ব্যবহার করবেন সেটি অবশ্যই নির্ধারিত মাত্রায়। রোটেটন ব্যবহারের ফলে আপনার পুকুরের পরিত্যক্ত মাছ মরবে সাথে অন্যন্য জলজ উদ্ভিদ মরে যাবে।

পুকুরের চুন সার প্রয়োগ

এবার আপনি পুকুরে চুন ও সার প্রয়োগ করতে পারেন। প্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে, সেটি নতুন বা পুরাতন পুকুর হোক না কেন। এরপর আপনি পুকুরের প্রতি শতাংশে ৫ থেকে ৭ কেজি গোবর বা কম্পোস্ট প্রয়োগ করবেন। প্রতি শতাংশে ৮ থেকে ১০ কেজি হাঁস মুরগির বিষ্টা ও ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার এবং ৫০ থেকে ৮০ গ্রাম টিএসপি সহ সব একসাথে মিশ্রণ করে পানিতে প্রয়োগ কবেন।

পুকুরে পানি উৎপাদন

আপনি এবার পুকুরে পানি প্রয়োগ করুন, পানি অবশ্যই ২ ফুট থেকে ২.৫ ফু পর্যন্ত পানি দিতে পারেন। সেটি যে কোন পরিস্কার পানির উৎস থেকে নিতে পারেন। তবে নদী নালা থেকে যদি পুকুরে পানি প্রবেশ করান তাহলে পাইপ দিয়ে পানি প্রবেশ করাবেন, এতে করে সুবিধা পাবেন কম পরিশ্রমে আর অবশ্যই পাইপের ২ মুখে ছোট জাল বেধে দিবেন। যেন নদী নালা থেকে পুকুরে পানি প্রবেশ করার সময় জলজ উদ্ভিদ সহ মাছ প্রবেশ না করতে পারে। এরপর পুকুরের পানি প্রবেশের পর তা ৫ থেকে ৭ দিন রাখুন। কারন ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে পুকুরের পানিতে প্রকৃতিগত খাদ্য বা প্লাংটন জন্মাবে। আপনি এসব বুঝতে পারবেন পানির রং দেখে। পানির রং হালকা সবুজ হলে আপনি বুঝে নিবেন পুকুরের পানিতে খাদ্য উৎপাদন হয়েছে।

পুকুরে কীটপতঙ্গ দমন

আপনি ইতিমধ্যেই সব কাজ শেষ করে পানি প্রবেশ করিয়েছেন। এবার আপনাকে পুকুরে কীটপতঙ্গ দমন করতে হবে, কারন আপনার পুকুরের খাদ্য উৎপাদনের সাথে সাথে ক্লাডোসিরা, হাঁসপোকা প্রভৃতি কীটপতঙ্গ জন্ম নিয়েছে এসব কীট থাকলে রেণুর মড়ক হয়। তাই আপনাকে রেণু ছাড়ার আগেই এদের নিয়ন্ত্রন করতে হবে। সাধারনত রেণু ছাড়ার ২ থেকে ৩ দিন আগে শতাংশ প্রতি বা ৩০ সেমি পানি হিসেবে ডিপটারেক্স প্রয়োগ করতে হবে। ডিপটারেক্স প্রয়োগের ফলে আপনার পুকুরের ক্লাডোসিরা, হাঁসপোকা মরে যাবে কিন্তুু আপনার পুকুরের খাদ্য ঠিকেই থাকবে।

আর যদি ডিপটারেক্স না পাওয়া যায় তাহলে বিকল্প হিসেবে আপনাকে রেণু ছাড়ার ১২ থেকে ১৫ ঘন্টা আগে ২ থেকে ৩ মিলি শতাংশ প্রতি সুমিথিয়ন মারতে হবে। এছাড়া আপনি প্রাচিন পদ্ধতিতে পোঁকা দমন করতে পারবেন। তা হল কেরোসিন তেল শতাংশ প্রতি ১২০ থেকে ১৩০ মিলি করে প্রয়োগ করতে পারেন। যখন পোঁকা মরে যাবে তখন আপরি মশারী বা মশারী জাতীয় জাল দিয়ে পোঁকা ছঁকে তুলে নিতে পারেন।

রেণু মজুদ

আপনি উপরে সব কিছু পড়ে মাছের রেনু চাষ করার সব কিছুই উপযুক্ত করে তৈরি করেছেন। এবার আপনাকে রেণু মজুদ করার প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। রেণু মজুদ করা সমপূর্ণ পুকুরের ঘনত্বের উপর ও মজুদ রাখার সময়কালের উপর নির্ভর করে। আপনার পুকুর যত বেশি বড় হবে আপনি রেণুর পরিমানও বেশি দিতে পারবেন। তবে রেনু মজুদ কার প্রক্রিয়া ২ ধরনের হয়ে থাকে সেটা হল : যদি একই পুকুরে রেণু পোনা থেকে চারা পোনা উৎপাদন করেন তাহলে তাকে ‘ এক-স্তর পদ্ধতি ‘ বলা হয়। ৭ থেকে ১৫ সেমি পর্যন্তকে চারা পোনা বলা হয়। আর যদি আপনি একটি ছোট পুকুরে রেণু ছেড়ে কয়েক দিন পর অন্য কয়েকটি পুকুরে কম ঘনত্বে ধানি পোনা স্থানান্তর করা হয়, তাহলে সে পদ্ধতিকে বলে ‘দ্বি-স্তর পদ্ধতি’। এ ক্ষেত্রে প্রথম পদ্ধতির প্রায় তিন গুণ রেণু মজুদ করা যায়। একস্তর পদ্ধিতে মাছের রেণু পোনা পালন করার জন্য আপনাকে ৬ থেকে ৮ গ্রাম ও দ্বি-স্তর রেণু পোনা পালন করার জন্য আপনাকে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম পর্যন্ত রেণু মজুদ করে রাখতে পারবেন।

রেণুর জন্য কিছু সতর্কতা রাখুন

আপনি রেণু পোনা ছাড়ার সময় এই সকল সতর্কতা রাখতে হবে। আপনি যেখান থেকেই মাছের রেণু নিয়ে আসুন না কেন অবশ্যই আপনাকে অক্সিজেন দিয়ে নিয়ে আসতে হবে। রেণু পোনা আনার সময় পাত্রে ঝাকুনি কম দিতে হবে কারন ঝাকুনি যত বেশি হবে তত আপনার রেণু পোনা মরার সম্ভবনা বেশি হবে। আর ঝাকুনি কম থাকলে আপনার রেণু পোনা মাছের মৃত্যুর ঝুকি অনেক কম থাকবে। তাই পরিবহনের রিক্স এর দিকটা খুব গুরত্বসহকারে দেখবেন। এর পর আপনি যখন পুকুরে রেণু ছাড়তে যাবেন তখন প্রথম যে বিষয়টি খেয়াল করবেন তা হলো আপনাকে আহবাওয়া ঠান্ডার দিকটা বিবেচনা করবেন, সকাল ও সন্ধার সময় আবহাওয়া শুস্ক ও ঠান্ডা থাকে তাই এই সময়টা রেণু ছাড়ার সময় বেচে নিতে পারেন। এছাড়া আপনার রেণু পোনার ব্যগের তাপমাত্রা ও পুকুরে পানির তাপমাত্রা সমান আছে কিনা তা অবশ্যই দেখে নিবেন।

রেণু পোনার খাদ্য

ইতিমধ্যে আপনি আপনার পুকুরে রেণু ছেড়েছেন। এবার খাদ্য প্রয়োগ করার পালা। তবে একটি জিনিস খেয়াল করবেন রেণুর জন্য উপযুক্ত খাদ্য হচ্ছে প্রকৃতিজ খাদ্য যা ইতিমধ্যে আপনার পুকুরে তৈরি হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত পুকুরে সার প্রয়োগ করলে অনেক ভাল ফল পাওয়া যায়। রেণু পোনার খ্যদ্য সার হিসেবে বেচে নিতে পারেন গোবর ২০০ গ্রাম অথবা কম্পোস্ট ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম অথবা হাঁস- মুরগির বিষ্ঠা ২০০ গ্রাম, ইউরিয়া ৪ থেকে ৫ গ্রাম, টিএসপি ২ থেকে ৩ গ্রাম সহ সব একত্রে পানিতে গুলিয়ে প্রয়োগ করবেন। তা ছাড়া সম্পূরক খাবার হিসেবে চালের কুঁড়া এবং সরিষার খৈল প্রয়োগ করা যায়। এ ক্ষেত্রে কুঁড়া ও খৈল ৫০: ৫০ অনুপাতে প্রয়োগ করতে পারেন ।

কতদিন পর রেণু থেকে তুলবেন

আপনি পুকুরে রেণু ছাড়ার ১৫ থেকে ১৮ দিন পর সব কিছু ঠিক থাকলে রেণু পোনা ধানি পোনায় পরিনত হয়। আপনি যদি ধানি পোনা বিক্রি করেন তাহলে ১৫ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে তা সুন্দর ভাবে তুলে বিক্রি করতে পারেন। কাঠা প্রতি প্রায় বিশ হাজার ধানি পোনা উৎপাদন হয়। একটি সুন্দর তথ্য দিয়ে রাখি সেটা হল ডিম পোনা থেকে ধানি পোনা উৎপাদন করতে কাঠা প্রতি খরচ হয় ২২০ টাকার মতো, বিক্রয় হয় ১৫০০ টাকার মতো এবং লাভ হয় প্রায় ১২৮০ টাকার মতো।

তাহলে ভাই ও বোনেরা আজ শিখে নিলেন ডিম পোনা বা রেণু পোনা চাষ করার সকল নিয়ম। আপনি আজ থেকে মাথায় প্লান করে নিতে পারেন যে রেণু পোনা চাষ করতে পারেন। অবশ্যই আপনি এই রেণু চাষের ব্যবসায় সফল হবেন এই কামনায় রইল এছাড়া আপনি যখন রেণু পোনা মাছ চাষের উদ্দ্যোক্তা হবেন তখন আপনি সরকারের মাধ্যমে ট্রেইনিং নিতে পারেন, এতে করে আপনার রেণু পোনা চাষ করার আইডিয়া সহ সরকারি সব সুবিধা পাবেন। আপনি রেণু পোনা চাষ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট এর সাথে যোগাযোক করতে পারেন । আর যদি আপনার কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট বক্স এ লিখে জানাতে পারেন।

লেখাটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে, অনুগ্রহ করে সে অনুযায়ী ভোট দিন

ভোট দিতে স্টার বাটনে চাপুন

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve this post?

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment