ব্যবসা শুরু করার আগে যা যা আপনাকে জানতে হবে

3
(2)

বর্তমানে সবাই ব্যবসা এর দিকে ঝুকে পড়তেছে। সবাই চাচ্ছে উদ্দ্যোক্তা হওয়ার জন্য। অনেকেই জানেনা ব্যবসা শুরু করার আগে যা যা জানতে হবে বা যেসব বিষয় জানতে হবে।শুধু সবাই ব্যবসা করার জন্য মরিয়া হচ্ছে। তার কারন বাংলাদেশ খুব স্বল্প উন্নত ও তৃতীয় বিশ্বের দেশ। এদেশের বেশিরভাগ শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীরা লেখাপড়া শেষ করে চাকুরির পিছনে ঘুরে বেড়ায়। একদিকে যেমন বেকারত্বের হার অনেক বেশি অপরদিকে বাংলাদেশ দারিদ্রতার হার অনেক বেশি। একদিকে যেমন চাকুরি পাওয়ার জন্য সবাই মরিয়া, অপরদিকে চাকরিদাতা অফিসগুলোতে তেমন পদ খালি নেই। ৫০ জন নিয়োগে ৫০ হাজার সিভি জমা পড়ে যায়। এরজন্য বর্তমানে তীব্র প্রতি দ্বন্দীতায় পড়তে হচ্ছে বর্তমান তরুণ যুবকদের। আর এছাড়া তো মামা, চাচা, খালু ফুফা আর টাকা ছাড়া চাকুরি পাওয়া মানে সোনার হরিণ পেয়ে গেলেন। তাই বর্তমানে অনেকেই উদ্দ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঝুকে পড়তেছে। সেটিও আবার দেখে স্বল্প পূঁজিতে ব্যবসা করার পদ্ধতি। অনেকেই একদম নেমে পড়ে ব্যবসায় আবার অনেকেই ভাবতে থাকে। ব্যবসায় নেমে পড়ার আগে সব কিছু চিন্তা না করে হুট করেই নেমে পরে, তারপর সেখানে পূজিঁ হারিয়ে আবার বেকারের খাতায় নাম লেখায়। এসব কিছুই হয় ব্যবসা করার সঠিক পদ্ধতি না জানার কারনে। আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করেন তাহলে ইনশাআল্লাহ সফল হবেন। শুধু ব্যবসায় নামলে হয় না। ব্যবসা করতে একজন উদ্দ্যোক্তার অনেক গুনাবলী থাকতে হয়। আজ আমি আপনাদের জন্য ব্যবসা করতে যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন সেগুলো তুলে ধরব। এই অনুযায়ী আপনি ব্যবসায় নামলে সফল হবেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসা

যেহেতু আমাদের দেশ মুসলমান বেশি তাই সর্বপ্রথম ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসা করার সব কিছু দেখে নিবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তার পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে ব্যবসাকে সম্মানজনক ও হালাল পেশা হিসেবে অবিহিত করেছেন। এছাড়া ব্যবসা নিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনেক হাদীস বর্ণিত হয়। এছাড়া তার সাহাবী, তবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীর থেকেও হালাল ব্যবসা সমন্ধে অনেক কিছু বলা হয়েছে। এছাড়া (হেদায়াতুন মুরশিদিন) কবির ভাষায় এসেছে ‘নবীর শিক্ষা, করোনা ভিক্ষা’ এখানে কাজ করতে বলা হয়েছে। তখনকার সময়ে কাজের একমাত্র পথ ছিল ব্যবসা। হযরত আদম (আঃ) ও শীষ (আঃ) এর পেশা ছিল কৃষি ব্যবসা। হযরত ইদ্রীস (আঃ) এর ব্যবসা ছিল দর্জির ব্যবসা, তিনি কাপড় সেলাইয়ের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এছাড়া আমাদের নবী হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। মোট কথা ইসলাম ধর্মের প্রায় সব নবী ও রাসুল ব্যবসায় দিকে ছিলেন। তখনকার সময়ে কিন্তুু হালাল ব্যবসা ছাড়া কোন রকম হারাম ব্যবসা ছিল না। কিন্তুু বর্তমানে বাজারে এসেছে অনেক হারাম পণ্য যা আপনি নিজের বিবেক কে প্রশ্ন করলে উত্তর পেয়ে যাবেন। তাই আপনি যে ব্যবসায় করুন না কেন হালাল ও হারাম ব্যবসার দিকে একটু নজর দিবেন। হালাল ব্যবসা ও হারাম ব্যবসা বা যেসব ব্যবসা করলে হারামের দিকে যায় সেগুলো স্থানীয় কোন আলেমের কাছ থেকে অবশ্যই জেনে নিবেন।

পূর্ব পরিকল্পনা

আপনি এবার কোন ব্যবসা করবেন তার পরিকল্পনা করে নিন। মনে মনে রিচার্চ করতে থাকুন আপনার ব্যবসার ধরন কি হবে। সেই ব্যবসার মার্কেট কোথায় ভাল হবে। আপনার পণ্যগুলোর মার্কেট ভ্যালু কেমন ও চাহিদা কেমন। এছাড়াও পরিকল্পনা করুন আপনার ব্যবসার কম্পিডিশন কেমন সেই এলাকায়। আগে এসব মনে মনে ভাবতে থাকুন এর পর আস্তে আস্তে এগুতে থাকুন।

কোন ধরনের ব্যবসা করবেন

আপনি কোন ধরনের ব্যবসা করবেন সেটি নির্বাচন করুন। বর্তমানে বহুল প্রচারিত ব্যবসা ও ব্যবসার ধরন রয়েছে অনেক। একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন আপনি যে ব্যবসাই করুন না কেন। আপনাকে প্রথমেই লক্ষ রাখতে হবে সেই ব্যবসাটি আপনি সঠিকমত করতে পারবেন কিনা। এরপর যেটি করবেন সেই ব্যবসা কি আপনার এলাকায় চলবে কিনা বা আপনার পণ্যের চাহিদা কেমন। এগুলো যাচাই বাচাই করে এগিয়ে যেতে থাকুন।

ব্যবসার স্থান নির্বাচন করুন

এরপর আপনার ব্যবসার স্থান নির্বাচন করুন। আপনি যে ব্যবসা করবেন তার জন্য কোন জায়গাটি সব থেকে ভাল হবে তা আপনি দেখে শুনে নির্বাচন করুন। এর জন্য ভাল হয় শহর, বাজার, দৈনিক বাজার এলাকায়। এছাড়াও বর্তমানে শহরের বাহিরে গ্রামের ভিতর ব্যবসা ভালই হচ্ছে। তাই আপনার ব্যবসার স্থানটি এমন জায়গায় থাকলেও কোন সমস্যা নেই।

সততা তৈরি করুন

ব্যবসার মধ্যে সব থেকে যে বিষয়টি সব থেকে বেশি নজরে আনতে হবে তা হল সততা। আপনি সততা ছাড়া প্রথম অবস্থায় ব্যবসা করতে পারলেও পরে করতে পারবেন না। অসাধু উপায়ে আপনি ব্যবসা করে ভাল লাভ করতে পারবেন প্রথম অবস্থায়। তার পর এমন লস করেন যে কমোড় তুলতেই পারবেন না। আপনার কাস্টমার আর আসবে না। একদিন দেখবেন আপনার দোকান কাস্টমার শূণ্য হয়ে গেছে। এছাড়া ধোঁকাবাজি ব্যবসা করা মানেই শয়তানের ব্যবসা করা ও এসব করা হারাম। তাই আপনি সততা ও ইসলামি শরিয়া মোতাবেক অনুযায়ী ব্যবসা করুন। নবী রাসূলদের আদর্শে ব্যবসা পরিচলনা করুন তাহলে আপনি একজন সফল ব্যবসায়ি হিসেবে সমাজে পরিচিত হবেন।

আপনাকে হতে হবে ধৈর্যশীল

ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে কঠোর ধৈর্যশালী হতে হবে। যদি আপনি ধৈর্যহীন ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে ব্যবসা করার দরকার নাই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীল ব্যক্তিকে ভালবাসেন। আল্লাহ যেহেতু তাদের ভালবাসেন তাহলে মানুষও অবশ্যই আপনাকে ভালবাসবে। আপনি আজ ব্যবসা শুরু করেই ১ মাসের মাথায় লাখপতি হবেন এরকম চিন্তা চেতনা মাথা থেকে দূর করতে হবে। অনেকেই ব্যবসা শুরু করার পর হতাশ হয়ে যায় যা একদমেই ঠিক না। আপনি আপনার ধৈর্যশক্তিকে তিব্র করুন। এবার আস্তে আস্তে এগুতে থাকুন।

দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হোন

আপনি একজন ব্যবসায়ী, তাহলে আপনার মনোবল দৃঢ় হতে হবে। দৃঢ় মনোবল ছাড়া ব্যবসা করা সম্ভব নয়। যে কোন খারাপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মন ও মানুষিকতা আপনার থাকতে হবে। ব্যবসার মধ্যে লাভ-ক্ষতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আপনি সব সময় লাভ করে যাবেন তা কিন্তুু নয় আপনাকে লস করার মনমানুষিকতা থাকতে হবে। এছাড়া ব্যবসার মধ্যে উত্থান-পতন আছেই। আপনি লোকসানে পড়লে ভেঙে না পড়ে আপনার ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে পারেন। আপনি দান করার মন মানুষিকতা বাড়িয়ে দিন। খারাপ সময়ে আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা রাখুন ইনশাআল্লাহ আপনি গতিশীল হবেন।

আপনাকে মিষ্টভাষী হতে হবে

ব্যবসা করতে হলে আপনাকে মিষ্টভাষী হতে হবে। যেন আপনার প্রতিটি কথায় মুক্ত ঝড়ে। আপনার মন থেকে দেহ ও কথায় নম্র ও ভদ্র থাকতে হবে। আপনার কাস্টমার আপনার উপর রাগ হলেও আপনি রাগের প্রতিউত্তর দিবেন না। আপনি হাসিমুখে তাদের সাথে থাকুন ও কি জন্য রাগ করেছে তার সঠিক উত্তরগুলো হাসিমুখেই দিয়ে দিন। মনে রাখবেন ওদের কারনেই আপনার ব্যবসা ঠিকমত চলছে। এছাড়া আপনার মিষ্টভাষী ও সৎ হওয়ার জন্য তাদের ও আপনার মাঝে ভালবাসা তৈরি হয়। এতে করে আপনার ব্যবসা অনেক ভাল হবে ও পরিচিত লাভ হবে।

হতে হবে কঠোর পরিশ্রমী

আপনাকে হতে হবে কঠোর পরিশ্রমী ও ত্যাগী। যে কোন কাজেই সফলতার পিছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম। কঠোর পরিশ্রম না থাকলে কোন জায়গায় সফল হতে পারবেন না। এটা কথা শুধু ব্যবসার জন্য না পরিশ্রমে ফল শব্দটি সব জায়গাতেই প্রযোজ্য। আপনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ব্যবসা করবেন তা নয়। আপনাকে কাস্টমারের সার্ভিস প্রদান করার উপর বেশ চাহিদা রাখতে হবে। আপনাকে ব্যবসা নিয়ে কাজ করতে হবে। আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজে করার মন ও মানুষিকতা করুন।

সার্ভিস প্রদান করুন তারাতারি

ব্যবসা তো সবাই করে। এছাড়া আপনি যে ব্যবসা করেন সেই ব্যবসা আরও অনেকেই করে। তাই আপনি আপনার ব্যবসা সঠিক ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য সার্ভিস প্রদান করুন। আপনি ইচ্ছে করলে কাস্টমার সাপোর্ট রাখতে পারেন। পণ্যের সার্ভিস, তথ্য, পণ্য ডেলিভেরি সহ সব কিছু করুন ফাস্ট সার্ভিসে। তাহলে আপনি একধাপ এগিয়ে গেলেন।

এছাড়াও ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে অনেক নিয়ম নীতি মেনে ব্যবসা করতে হবে। রাষ্ট্রের নিয়ম ও নীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করুন। নিশ্চয়ই আপনার জন্য রাষ্ট্রের হক রয়েছে এছাড়া রাষ্ট্র থেকে আপনারও হক রয়েছে। এগুলো সঠিক নিয়মে পালন করুন। এছাড়া আপনাকে ব্যবসা পরিচালনা করতে গেলে আপনার মাঝে ও ব্যবসার মাঝে কি কি দরকার তা অবশ্যই যোগ করবেন। ঠিক একদিন আপনি একজন সফল উদ্দ্যোক্তা ও ব্যবসায়ি হতে পারবেন এই দোয়া সব সময় আপনাদের জন্য থাকবে।

লেখাটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে, অনুগ্রহ করে সে অনুযায়ী ভোট দিন

ভোট দিতে স্টার বাটনে চাপুন

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve this post?

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

2 thoughts on “ব্যবসা শুরু করার আগে যা যা আপনাকে জানতে হবে”

  1. সত্যি অসাধারন লাগলো আপনার লেখা। আপনি আমাদেন জন্য আরও লেখা উপহার দিন এই কামনা 🙂

    Reply

Leave a Comment