চা পাতার ব্যবসা করার আগে এসব তথ্য পড়ুন

4
(6)

আজকে আমি আপনাদের জানাবো কিভাবে আপনি চা পাতার ব্যবসা করবেন। আগে বলে রাখা ভালো যে চা পাতার ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা। আপনি যদি ভালো মানের চা পাতা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি লাভবান হবেন। এর জন্য আপনাকে চা পাতার গ্রেড সম্বন্ধে ভালোভাবে জানতে হবে। কারণ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন গ্রেডের চা পাতা চলে। আজকে আমি আপনাদের চা পাতার গ্রেট ও চা পাতার ব্যবসার সব আইডিয়া সম্বন্ধে বিস্তারিত বলবো তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

চা পাতারর গ্রেড কতটি হতে পারে

চা পাতার রয়েছে অনেক ধরনের গ্রেড ও সাইজ। আপনি চা পাতার গ্রেড কখনও চা পাতার সাইজ এর উপর নির্ধারন করবেন না। চা পাতার গ্রেড এক রকম এবং এর সাইজ অন্যরকম। ভালমানের চা পাতার চেনার কোন উপায় নেই, কারন চা পাতা দেখতে সবেই একরকম কিন্তুু সাইজ বিভিন্ন রকমের। চা পাতার মোটা দানা ভাল নাকি চিকন দানা ভাল সেটা বুঝতে পারবেন না। মোটকথা আপনাকে দামের উপর নির্ভর করতে হবে চা পাতা কোনটা ভাল বা কোন চা পাতা খারাপ।

চা পাতার সাইজ

এখানে আমি শুধু বলতেছি চা পাতার সাইজ নিয়ে প্রথমে মোটা দিয়ে শুরু সব শেষে একদম চিকন বা পাউডার। এগুলো নির্ভর করে কোন অঞ্চলে চলে সেটির উপর। চা পাতার সাইজগুলো দেখুন:

  • বিওপি-BOP
  • জিবিওপি- GBOP
  • ওএফ-OF
  • পিএফ-PF
  • পিডি-PD
  • আরডি-RD
  • ডাস্ট-DUST
  • সিডি/ডাস্ট-CD/DUST

উপরে সব থেকে বড় সাইজ হচ্ছে বিওপি ও শেষ এ সব থেকে পাউডার জাতীয় হচ্ছে সিডি/ডাস্ট। চা পাতার ব্যবসা করার আগে আপনি আপনার এলাকায় দেখুন কোন সাইজের চা পাতা ব্যবহার করে।

আপনি যদি সিলেট চট্টগ্রাম ঢাকা রংপুর কুমিল্লা ময়মনসিংহ বরিশাল এই এলাকায় যদি পাতার প্যাকেট নিয়ে ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে বিওপি, জিবিওপি, ওএফ, পিএফ, পিডি চা পাতা নিয়ে ব্যবসা করতে হবে। এই চা গুলো সাধারণত গুটি দানার হয়ে থাকে। যাহা গরম কেটলিতে দিয়ে ফুটিয়ে চা তৈরি করা হয়।

আর আপনি যদি রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে প্যাকেট নিয়ে ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে ডাস্ট অথবা সিডি ডাস্ট চা পাতা নিয়ে ব্যবসা করতে হবে। এইসা গুলো সাধারণত স্বপ্নের উপর চা চামচ পরিমাণ দিয়ে তার ওপর গরম পানি ঢেলে দেয়। ফোটায় ফোটায় চা কাপের পড়তে থাকে সেখান থেকে চা তৈরি হয়। সিডি ডাস্ট চায়ের গুণগতমান হল: চায়ের লিকার কালো বর্ণ হবে এবং খুব কষ যুক্ত হবে।

চা পাতার মান

চা পাতার মান নিয়ে রয়েছে নানা রকম সংশয়। সাধারণত যারা প্রথমভাবে ফ্রেশ বিজনেস করতে এসেছেন তারা অনেকেই কারন ভালো মানের চা এর মান পাওয়া খুবই মুশকিল। এছাড়াও রয়েছে অনলাইনে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী। যারা দাম ঠিকেই রাখে, কিন্তু মান অনুযায়ী চাপাতা সাপ্লাই দেয় না। তবে বলে রাখা ভালো__ যারা প্রথমবার ব্যবসা করতে নামবেন তারা অবশ্যই যাদের সাথে ব্যবসা করবেন, তাদের সব কিছু দেখেশুনে পারলে তাদের প্রতিষ্ঠানে ভিজিট করে দেখে তারপর চাপাতা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করুন।

আবার অনেক প্রতিষ্ঠান আছে তাদের কোনো ল্যাব নেই। তাদের কোনো টি টেস্টার নেই। তাদের কোন ভালো ব্লেন্ডিং করার ধারণা নেই। আপনি তাদের সাথে ব্যবসা করবেন না। কারণ আপনাকে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম মাল দিয়ে দিবে। এতে করে আপনার মার্কেটিং করতে যেমন সমস্যা হবে, ঠিক তেমনি আপনি মার্কেট থেকে ঝরে পড়তে পারেন। শ্রীমঙ্গলের মধ্যে অনেক পাইকারি দোকান পাবেন তাদের কাছ থেকে আপনি চা পাতা পাইকারি দামে ক্রয় করুন। তবে দেখবেন অবশ্যই আপনি যেখান থেকে করে করতেছেন তাদের এক্সপেরিয়েন্স ও তাদের ব্যবহার। কারণ অনেক ব্যবসায়ী রয়েছে যারা শুধুমাত্র চা পাতা বিক্রি করতে ইচ্ছুক কিন্তু long-term আপনার সাথে ব্যবসা করতে ইচ্ছুক না। আপনি সেই সকল কোম্পানি থেকে চা পাতা ক্রয় করুন যারা আপনাকে মার্কেট এর নিশ্চয়তা দিবে।

চা পাতার প্যাকেট

এখানে একটি খুব সুন্দর জিনিস আমি তুলে ধরবো। আপনি যাদের সাথে ব্যবসা করতেছেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নামের সাথে তাদের প্যাকেটের নামের মিল আছে কিনা তা আগে যাচাই করুন। আপনি যদি তাদের সাথে মিল পান, তাহলে বুঝে নিবেন তাদের পন্যটি আসল এবং তারা আসল ব্যবসায়ী।

কাচা চা পাতার ধরন ও নাম

আর যদি তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম এবং তাদের প্যাকেটের গায়ের নাম এক না হয় তাহলে বুঝে নিবেন তারা চা পাতার ব্যবসা সম্বন্ধে কিছুই জানে না। এছাড়া আপনি তাদের টি বোর্ড লাইসেন্স, বিএসটিআই নম্বর, ট্রেডমার্ক, টিন সার্টিফিকেট ও বিআইএন নম্বর দেখে নিবেন। এতে করে আপনি যেমন তাদের থেকে সত্যতা অর্জন করতে পারবেন ঠিক ততখানি আপনি মার্কেটে ভালো কিছু করার দক্ষতা অর্জন করবেন। কারণ আগেই বলেছি এই চা পাতার ব্যবসা কে কেন্দ্র করে নানা রকমের প্রতারক প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়াচ্ছে। । বর্তমান বাজারে অনেক নকল চা পাতার প্যাকেট বের হয়েছে। আপনি যদি নকল চা পাতার প্যাকেট নিয়ে মার্কেটিং করেন তাহলে আপনি বাংলাদেশ টি বোর্ড, স্টান্ডার ট্রেডমার্ক, বিএসটিআই এর আইনের আওতায় পড়তে পারেন। এর জন্য আপনাকে জেল-জরিমানা পোহাতে হবে।

কোন দামের চা পাতা ভাল

চায়ের রয়েছে নানা রকম দাম। যেহেতু চা পাতা একটি কাঁচাবাজার পণ্য। তাই বিভিন্ন দিন বিভিন্ন রকম দাম থাকে। এই দামগুলো নির্ধারণ করে চা পাতার অকশন থেকে। চায়ের অকশনে বিভিন্ন ধরনের চায়ের দাম বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। আপনি যদি ভাল মানের চা নিয়ে ব্যবসা করেন। তাহলে আপনাকে অবশ্যই ভালো দাম দিতে হবে । আর আপনি যদি খারাপ তা নিয়ে ব্যবসা করেন, তাহলে আপনি কমদামের চা পাতা দিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন।

আপনি যদি ভালো চা পাতা নিয়ে এবং আপনার মার্কেটিং দক্ষতা যদি ভাল থাকে তাহলে আপনি এই চা পাতার ব্যবসার মধ্যে ভালো কিছু করতে পারবেন। আর আপনি যদি খারাপ মানের চা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে হয়তো সাতদিন থেকে চৌদ্দ দিনের মধ্যেই আপনাকে ব্যবসা থেকে সরে যেতে হবে।

দেখে নেই ভাল মানের চায়ের দাম

লিফ চা পাতা যেমনঃ বিওপি, জিবিওপি, ওএফ, পিএফ সাইজ এর ভালমানের চা পাতার দাম হতে পারে: ২৬০/- থেকে ৩২০/- পর্যন্ত।

ডাস্ট চা পাতা যেমনঃ পিডি, ডাস্ট, আরডি, সিডি সাইজ এর ভালমানের চা পাতার দাম হতে পারে : ২৯০/- টাকা থেকে ৩৩০/- টাকা পর্যন্ত।

আপনি উপরক্ত দামের থেকে কমদামের চা পাতা পাবেন সেগুলোর মান তেমন ভাল হবে না। আপনি কম দামের চা পাতা নিয়ে ব্যবসা করলে মার্কেট থেকে আউট হতে পারেন ১০০% নিশ্চয়তা দিতে পারব।

চা পাতার লাইসেন্স

চা পাতার ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এই লাইসেন্স প্রদান করে বাংলাদেশ টি বোর্ড। আপনার ব্যবসার উপর ভিত্তি করে চা পাতার লাইসেন্স বিভিন্ন রকম হতে পারে।

আপনি যদি খুচরা এবং পাইকারি দামে চা পাতা ক্রয় করেন এবং বিক্রি করেন। তাহলে আপনাকে খুচরা এবং পাইকারি লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এই লাইসেন্স নিতে গেলে আপনাকে বাংলাদেশ টি বোর্ড কে দুই হাজার পাঁচশত টাকা ফি প্রদান করে নিতে হবে।

আপনি যদি অকশনে বিট করেন তাহলে আপনাকে বিটার লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। বিটার লাইসেন্স গ্রহণ করার জন্য আপনার ফি গুণতে হবে দশ হাজার টাকা এবং আপনাকে বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স এসোসিয়েশন এর সদস্য হতে হবে। যার সদস্য ফি এক লক্ষ চুয়ান্ন হাজার টাকা।

এরপর আপনাকে ব্লান্ডার লাইসেন্স নিতে হবে। ব্লেন্ডার লাইসেন্স প্রদান করা হয় তাদের পাতা প্যাকেটজাত করে এই লাইসেন্সের ফি হচ্ছে ২০ হাজার টাকা।

আপনি যদি ব্রোকার্স লাইসেন্স গ্রহন করেন তাহলে আপনাকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে গ্রহন করতে হবে। এছাড়াও আরও অনেক কিছু আপনাকে করতে হবে।

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশ টি বোর্ড সর্বমোট ছয় ধরনের লাইসেন্স দিয়ে থাকে। আর এসব লাইসেন্স নিতে হলে আপনাকে অবশ্যই অনেক কিছু ডকুমেন্ট বাংলাদেশ টি বোর্ড কে দিতে হবে। টি বোর্ড যদি মনে করে আপনার সবকিছু ঠিক আছে তাহলে আপনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত হবেন। আর যদি দেখেন কাগজপত্র ঠিক নাই তাহলে আপনি লাইসেন্স পাবেন না।

কার কাছ থেকে আপনি চা পাতা নিবেন

আপনি কার কাছ থেকে চা পাতা নেবেন সেটা আপনার ব্যাপার। আপনি যেখান থেকেই চাপাতা নেন না কেন অবশ্যই তাদের সবকিছু দেখে নিবেন। আর আপনি যদি আমার উপর ছেড়ে দেন তাহলে আমি বলব শ্রীমঙ্গলের রেবনল টি এর কাছ থেকে চা পাতা ক্রয় করবেন। তাদের রয়েছে নিজস্ব ল্যাব, নিজস্ব প্যাকেট বিএসটিআই অনুমোদিত, ট্রেডমার্ক রেজিস্টার্ড, এবং আপনাকে সবসময় ভাল কোয়ালিটি চা পাতা সাপ্লাই দিয়ে থাকবে। আপনি নিচের ঠিকানায় সরাসরি যেতে পারেন, এবং সবকিছু দেখে নিতে পারেন। এছাড়া আপনি তাদের সাথে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। তাদের ঠিকানা হলো: রেবনল টি – Rebnal Tea শাপলাবাগ আ/এ, শ্রীমঙ্গল -৩২১০, মৌলভীবাজার। মোবাইল নাম্বার +8801713-426386।

আপনি যেখানেই ব্যবসা করেন না কেন দেখে শুনে বুঝে ব্যবসা করবেন। তাহলে আপনি আপনার ব্যবসা নিয়ে কোন ঝামেলায় পড়বেন না। চা পাতার ব্যবসা লাভজনক ব্যবসা নয়, আপনি যদি গুণগত মান ধরে রাখতে পারেন ও মার্কেটে টিকে থাকতে পারেন আপনি চা পাতার ব্যবসা দিয়ে ভালো কিছু করতে পারবেন।

লেখাটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে, অনুগ্রহ করে সে অনুযায়ী ভোট দিন

ভোট দিতে স্টার বাটনে চাপুন

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve this post?

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment