কলম তৈরির ব্যবসার সকল আইডিয়া জেনে নিন

3.3
(6)

মনের মধ্যে স্বপ্ন আপনার যে নিজে একটি ফ্যক্টরি দিবেন। অবশ্যই দিতে পারেন। কলম তৈরির ব্যবসার কথা বলতেছি। এই ব্যবসাটি করতে তেমন বেশি ইনভেস্ট লাগাতে হয় না। আপনি অল্প কিছু দিয়ে একটি ফ্যক্টরির মালিক হয়ে গিয়েছেন। আবার একদিকে আপনি অনেক ভাল কাজ করতেছেন। এবং একদিকে বন্ধু বান্ধবদের বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন যে_ আমার তৈরি করা কলম দিয়ে তোরা লিখিস। আমার তৈরি করা কলম দিয়ে দেশের অনেকেই যেমনঃ অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ, মাদ্রসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল খারখানা তে লিখতে পারতেছে এবং কলমের মার্কেট চাহিদা এতো বেশি যে আপনি ফ্যক্টরিতে কলম তৈরি করে হুশ পাবেন না। চারদিন থেকে ফোন আর ফোন আসবে ( যদি আপনার কলমের গুনগত মান ঠিক থাকে) আর সব থেকে বড় কথা হল আপনি টাকা রোজগার করতেছেন। আজ আপনাদের একটু জ্ঞান দিবো কলম তৈরি করার জন্য যাবতীয় ব্যবসার তথ্য। তো শুরু করা যাক এখান থেকে।

কলম তৈরি করতে কি করতে হবে

 

কলম তৈরি করার জন্য প্রথমে আপনাকে এটি গুদামঘর, একটি কারখানা, একটি অফিস নিতে হবে। তারপর সেগুলোতে মেশিন সেট করতে হবে।আর গুদামে সরঞ্জামাদি রাখতে হবে। কল তৈরির জন্য যে সকল মেশিন কিনতে পারবেন তার দাম নিম্নে দেওয়া হল।

কলম তৈরির মেশিন

কলম তৈরির মেশিন

১৭ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে একটি ঢালাই বডি কিনতে হবে। অথবা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায় আপনি লোহার বডি পাবেন। আর আপনি যদি ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় মেশিন কিনতে চান তাহলে আপনাকে ডায়মন্ড লোহার বডির মেশিন দেওয়া হবে। বাংলাদেশের অনেক কোম্পানি এসব মেশিন বিক্রি করে থাকে। আপনি সেখান থেকে এই মেশিনের বডি কিনতে পারবেন। আপনি কলম তৈরির মেশিন কিনলেন। এখন দরকার আপনাকে কাচামাল। আপনি কাচামাল কিনে ফ্যক্টরি চালু করতে পারেন। নিম্নে কাচামাল এর তথ্য দেওয়া হল:

কাচা মাল ও দাম

০১.বডি ১৪৪ পিছের দাম ১২৫/- টাকা।
০২. এ্যাডেপ্টার ১৪৪ পিছের দাম ৬/- টাকা।
০৩. ক্যাপ ১৪৪ পিছের দাম ৪৪/- টাকা।
০৪. পয়েন্ট ১৪৪ পিছের দাম ৩৫/- টাকা।
০৫. ১০ পিছের প্যাকেট প্রিন্ট সহ ৩.২০/- টাকা।
০৬. কালি এক লিটারের দাম ৬৫০/- টাকা।

উপরক্ত কাচামাল আপনাকে অবশ্যক নিতে হবে। আর একটা কথা বলে রাখা ভাল। এখানে মূল্যটি স্বাভাবিক ধরা হয়েছে। আপনি যদি বেশি করে কলম তৈরির কাচামাল নেন তাহলে আপনাকে আরও কম দামে তারা দিবে। এখন হয়তো ভাবছেন এসব কাচামাল কোথায় পাবেন। আসলে আপনি ঢাকার মিডফোর্ড এলাকায় ও চকবাজার এলাকায় এসব কাচামাল পাবেন।

কলম তৈরির ব্যয়ের হিসাব

এখানে আপনাকে দেওয়া হচ্ছে একটি কলম তৈরির হিসাব। যখন আপনি আপনার কলম ফ্যাক্টরিতে কলম উৎপাদন করবেন সে হিসেব অনুযায়ী একটি কলমে কত টাকা খরচ পরে তার সব চিত্র নিচে প্রদান করা হলঃ

০১. বডির খরচ হবে ০.৮৩ পয়সা।
০২. এ্যাডেপটরে খরচ হবে ০.০৪ পয়সা।
০৩. প্যাকেট এ খরচ হবে ০.০২ পয়সা।
০৪. ক্যাপ এ খরচ হবে ০.১৭ পয়সা।
০৫. পয়েন্ট এ খরচ হবে ০. ২৪ পয়সা।
০৬. কালি এক গ্রামে খরচ হবে ০.০৬ পয়সা।

আপনার ফ্যক্টরিতে একটি কলম উৎপাদন করতে ফ্যক্টরিতে খরচ খরচ পড়বে (০.৮৩ + ০.০৪ +  ০.০২ + ০.১৭ + ০.২৪  +  ০.৬ =   ১.৯৯/- টাকা তাহলে অফিস লেবার সহ সব খরচে এ পড়বে ২ টাকা।

একটি কলম থেকে টাকা আয়

উপরের হিসেবে দেখেছেন যে সব ফ্যাক্টরি অফিস সব কিছু বাদ দিয়ে আপনাকে গুনতে হয়েছে ২ টাকা। এবার আপনি যদি ডিলার বা ডিপো মূল্য মার্কেট এ একটি কল বিক্রি করেন তাহলে অবশ্যই সেটি ৩ টাকা থেকে ৩.৫০/- টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন। আপাতত কলম তৈরি করা থেকে মার্কেট এ প্রচার করার জন্য দাম একটু কম নেওয়া হোক। ধরুন আমরা একটি কলমে ১ টাকা করে লাভ নিচ্ছি।

আমরা ফ্যাক্টরি তৈরি করেছি, মেশিন কিনেছি, কাচামাল কিনেছি এমনি একটা কলম বানাতে আমাদের আয় ব্যয়ের সকল হিসেব করেছি। এখন আমাদের পালা মার্সেন্ডাইসার বা অফিস সহকারি দিয়ে আমাদের দৈনিক কলম উৎপাদনের ব্যয় ও আয়ের হিসাব বের করা। চলুন আমরা একটু এখানে মৌখিক ভাবে হিসাব করে নেই। আপনার ফ্যক্টরিতে প্রতিদিন কলম তৈরি হয় সর্বমোট ৫ হাজার পিছ।
তাহলে আপনার প্রতি কলমে ব্যয় হয়ঃ
৫০০০X২ = ১০, ০০০/- টাকা।
আর আয় হয়ঃ
৫০০০X ১ = ৫,০০০/- টাকা।

তাহলে আপনার দৈনিক কলম বিক্রির জন্য লাভ হয় ৫০% মানে দশ হাজার টাকা ব্যয়ে আপনি পাচ্ছেন ৫ হাজার টাকা। এখানে আপনি ২ হাজার টাকা মার্কেটিং খরচ ও ১ হাজার টাকা প্রতিদিনের খরচে রাখবেন। তাহলে আপনার অবশিষ্ট থাকতেছে ২ হাজার টাকা ২০০০/- X ২৫ দিন = ৫০,০০০/- টাকা মাসিক আয়। এবার আপনি নিজেই বুঝতে পারলেন তো আপনার এই কলম ফ্যক্টরি দিয়ে মাসিক আয় কত টাকা।

কলম ফ্যক্টরি দিতে গেলে আপনাকে কি কি কাজগপত্র নিতে হবে তা বর্ণনা করা হলো

 

তার আগে আপনি নিজের মেধাকে বিবেক কে একটু প্রশ্ন করুন যে কলম তৈরি করার কি আপনি ভুল করতেছেন কিনা। এবার বুঝুন আপনি এই কলম তৈরি করতে বেশি কিছু কাগজপাতি লাগবে না। তবে আপনি যদি দেন তাহলে ভাল হবে তবে আমার মতে আপনি এ সকল কাগজ অবশ্যই দিবেন। যেমনঃ
০১.পি এস পি লাইসেন্স।
০২.ট্রেড লাইসেন্স।
০৩. ট্রেডমার্ক।
০৪.পরিবেশের ছাড়পত্র।
০৫.ফায়ার লাইসেন্স।
০৬.প্রসেস ফ্লোচার্ট।
০৭. কারখানার লে আউট।
০৮.ভ্যাটের সকল কাজগ।
০৯. আয়কর প্রত্যয়ন পত্র।
১০. বিএসটিআই।

উপরক্ত কাগজগুলো আপনাকে যে কোন ফ্যক্টরি করতে গেলে লেগে যায়। তাই আপনি যেহেতু কলম ফ্যক্টরি দিচ্ছেন। অবশ্যই এই কাগজগুলো লাগবে। আপনি সব সময় সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন কাজ করুন দেখবেন আপনার জীবনটাও পরিচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছে।

আজ আমি আর কথা বাড়ালাম না। উপরের লেখায় যদি কোন অংশে ভুল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর যদি আপনার কোন কিছু জানার থাকে তাহলে আপনি কমেন্ট এ বলতে পারেন। পোস্ট টি ভাল লাগলে শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের জানাতে পারেন। – আল্লাহ হাফেজ।

লেখাটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে, অনুগ্রহ করে সে অনুযায়ী ভোট দিন

ভোট দিতে স্টার বাটনে চাপুন

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve this post?

পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Comment